
বিশেষ প্রতিবেদন:- আজ মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) কুমিল্লার হাওড়ে ধান কাটতে যাওয়া বিরামপুর ও নবাবগঞ্জের ৭ জন শ্রমিক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়। স্বজন হারা পরিবারের চলছে শোকের মতন। নিহতদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা ও আহত পরিবারের খোঁজ নিয়েছেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ও মহিলাও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী ডা: এজেডএম জাহির হোসেন* এমপি)
আজ সকালে, দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার জোতবানী ইউনিয়নের ভাইগর গ্রামের ৪ জন শ্রমিক কুমিল্লায় যাওয়ার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতের ঘটনাটি পরিবারের কাছে পৌঁছিলে শ্রমিকদের বাড়িতে চলছে শোকের মতন। বিরামপুর ও নবাবগঞ্জ উপজেলার ১৩ জন শ্রমিক এই মঙ্গা মৌসুমী কাজের সন্ধানে হাওর এলাকায় ধান কাটতে যাচ্ছিল।কম ভাড়ায় ট্রাকের ছাদের উপরে চড়ে কুমিল্লায় মহাসড়কের একটি রাস্তায় পৌঁছিলে চাল বোঝাই ট্রাকটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে যায়। ঘটনাস্থলে ৭ জন নিহত হয়। আহত হয় ৬ জন।
কাজের সন্ধানে কুমিল্লার গেলেন কাজ করে পরিবারের মুখে একমুঠো অন্ন তুলে দিবেন। তাদের আর বাড়িতে ফেরা হলো না । ট্রাক উলটেই খাদে পড়ে প্রাণ গেল ৭ জনের।
প্রকাশ, কুমিল্লার সড়ক দুর্ঘটনায় দিনাজপুর জেলার বিরামপুর উপজেলার জোতবানী ইউনিয়ানের ভাইগর গ্রামের শ্রমিকের কাজ করতে যাওয়া ৪জন ও নবাবগঞ্জ উপজেলার খালিকপুর গ্রামের ৩জন সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়।
কাজের সন্ধানে বিরামপুর থেকে কম ভাড়ায় চাল বোঝাই ট্রাকে ছাদে উঠে কুমিল্লার হাওড়ায় ধান কাটার জন্য যাচ্ছিলেন ১৩ জন শ্রমিক। ট্রাকটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে যায়। ঘটনা স্থলে ৭ জন নিহত হয়। একসাথে একদিনে একই গ্রামের চারজনের এমন অকাল মৃত্যু আগে কখনো দেখেননি। গতকাল সোমবার রাত সোয়া তিনটার দিকে কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার হাসানপুর এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম আঞ্চলিক মহাসড়কে চালবোঝাই একটি ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারায়। এতে ৭ জন নিহত হয়। এ সময় আহত হয় ৬ জন । নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে চারজনই বিরামপুর উপজেলার ভাইগর গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা মজির উদ্দিনের ছেলে আবু হোসেন (৪২), ছইফ উদ্দিনের ছেলে বিষু মিয়া (৪৫), পলাশ হোসেনের ছেলে সুমন বাবু (২২) এবং রফিতুল্লাহ মণ্ডলের ছেলে আবদুর রশিদ (৬৫)। অন্যদিকে নবাবগঞ্জ উপজেলার খালিকপুর গ্রামের আফজাল হোসেন( ৩৫),আবু সালেক (৪৫) সোহরাব হোসেন (৪০)
আজ সকালে ভাইগর গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, নিহত ব্যক্তিদের স্বজনদের কান্নায় নিজ নিজ বাড়ি প্রহর গুনছেন কখন আসবে স্বজনদের লাশ। নিহত নিহত পরিবারদের প্রতিবেশীরা পাশে বসে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করছেন। নিহত ব্যক্তিদের সন্তানেরা কেউ বারান্দায়, কেউ উঠানে বসে নীরবে কাঁদছেন। একই দিনে গ্রামের চারজনের মৃত্যুর খবরে আশপাশের নারী-পুরুষ ও শিশুরা ভিড় করছেন বাড়িগুলোতে। তারাই ছিলেন পরিবারের উপার্জন সক্ষম ব্যক্তি।
ভাইগর গ্রামের ফসলি জমিতে এখন বোরো ধান আবার চলছে। ধান কাটতে এখনো এক-দেড় মাস সময়। মাঠে তেমন কাজ না থাকায় অনেক কৃষিশ্রমিকেরা অলস সময় পার করছিলেন। বাড়তি আয় ও জীবিকার তাগিদে তারা প্রায়ই আশপাশের এলাকায় কাজের সন্ধানে যেতেন। গতকাল তাঁরা কুমিল্লায় ধান কাটার কাজ করতে রওনা দেন।
আজ সকালে আবু হোসেনের মুঠোফোনে কল দিয়ে তার মৃত্যুর বিষয়টি জানতে পারেন স্ত্রী শিরিনা আক্তার, তিনি জানান তার স্বামী তার সংসারে উপার্জনকারী ছোট্ট দুটি সন্তানকে নিয়ে কিভাবে পরিবার চলবে তার আর্তনাদ। অপর নিহত বিষু মিয়ার বড় ছেলে রাফিয়াতুল্লাহ (১৫) স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী। রাফিয়াতুল্লাহ বলে, গতকাল সকালে বাড়ি থেকে বাবা বের হওয়ার সময় আমাকে বলেছিল, ভালোভাবে লেখাপড়া করবি, বাবা,মা ও বোনদের দেখিয়ে রাখিস। আমাদের রেখে বাবা আজ একেবারেই চলে গেলেন না ফেরার দেশে।
এদিকে দিনাজপুর-৬ নির্বাচনী এলাকার সংসদ সদস্য গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় সমাজ কল্যাণ ও মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা: এ জেড এম জাহিদ হোসেন নিহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন, আহতদের পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আমির আলী ও জালালকে দেখতে যান।
দিনাজপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) রিয়াজ উদ্দিন দৈনিক ইনকিলাবকে জানান, দাউদকান্দিতে সড়ক দুর্ঘটনায় বিরামপুর ও নবাবগঞ্জ উপজেলার সাতজন নিহত হয়েছেন। এ বিষয়ে দাউদকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে কথা হয়েছে। নিহত ব্যক্তিদের মরদেহ বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহত ব্যক্তিদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তাও দেওয়া হবে।
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ওয়েবসাইট এর কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পুর্ণ বেআইনি
Leave a Reply